1. admin@chattogramsangbad.net : chattomsangba :
  2. editor@chattogramsangbad.net : editor :
আ’লীগের সম্মেলনে কেন নির্দিষ্ট নেতাদের আমন্ত্রণ, প্রশ্ন বিএনপির - দৈনিক চট্টগ্রাম সংবাদ
June 13, 2024, 1:17 pm

আ’লীগের সম্মেলনে কেন নির্দিষ্ট নেতাদের আমন্ত্রণ, প্রশ্ন বিএনপির

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট সময় : Friday, December 23, 2022
  • 90 বার পড়েছে

সংবাদ ডেস্ক: ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ২২তম জাতীয় সম্মেলনে বিএনপি নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো নিয়ে দলটির নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, একটি রাজনৈতিক দল অপর রাজনৈতিক দলের সম্মেলনে আমন্ত্রণ পায়। কিন্তু বিএনপির এত নেতা থাকতে সুনির্দিষ্ট তিন নেতা কেন আওয়ামী লীগের সম্মেলনের আমন্ত্রণ পেলেন?

শুক্রবার (২৩ ডিসেম্বর) দুপুরে আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক আবু সায়েমের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়ে তিন নেতার নামে আমন্ত্রণপত্র হস্তান্তর করে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সের কাছে আমন্ত্রণপত্র হস্তান্তর করেন তারা। এ সময় এমরান সালেহ প্রিন্স আওয়ামী লীগ নেতাদের চা পানের অফার করলে তারা অপেক্ষা না করে বেরিয়ে যান।

আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক আবু সায়েম যখন আমন্ত্রণপত্র প্রিন্সের কাছে তুলে দেন তখন বিএনপির স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতান আওয়ামী লীগ নেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমাদের নেতারা তো কারাগারে।

তখন সায়েম বলেন, যারা কারাগারে, সেটা আইনের বিষয়। তাই প্রতিনিধিত্বকারী বাইরে (কারাগারের বাইরে) থাকা নেতাদের আমন্ত্রণ করেছি।

এরপর বিএনপি কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের সায়েম খান বলেন, সব রাজনৈতিক সংগঠনকে আমরা আমন্ত্রণ জানিয়েছি। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান ও আবদুল মঈন খানকে আমরা আমন্ত্রণ করেছি।

সম্মেলনের আগের দিন বিএনপিকে আমন্ত্রণ জানালেন কেন?- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বৈশ্বিক সংকটের কারণে এবার আমাদের সবকিছু সাদামাটা হচ্ছে। এবার আমরা স্বল্প সময়ে, অল্প অর্থ ব্যয়ে সম্মেলন সমাপ্ত করার চেষ্টা করছি। আমন্ত্রণপত্রও আমরা স্বল্প পরিসরে বিলি করছি।

এরপর বিএনপি কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় উপস্থিত কয়েকজন নেতা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করছেন, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সের আওয়ামী লীগের সম্মেলনের আমন্ত্রণপত্র গ্রহণ করা উচিত হয়নি। তারা যেমন জুনিয়র নেতাদের দিয়ে আমন্ত্রণ পাঠিয়েছেন, তেমনি আমাদেরও দলীয় কার্যালয়ের কর্মকর্তাকে দিয়ে আমন্ত্রণপত্র গ্রহণ করা উচিত ছিল।

এসময় বিএনপির এক নেতা বলেন, ব্যক্তিগতভাবে যখন আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে তখন তাদের ব্যক্তিগত কার্যালয় অথবা বাসায় গিয়ে আমন্ত্রণ জানানো উচিত ছিল। দলীয় কার্যালয়ে নেতাদের ব্যক্তিগত নামে চিঠি দিয়ে আওয়ামী লীগ সংকীর্ণ রাজনীতির পরিচয় দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির একজন সহ-সম্পাদক বলেন, আওয়ামী লীগের সম্মেলনে এভাবে আমন্ত্রণ জানিয়ে বিএনপিকে হেয় করার চেষ্টা করা হয়েছে। পাশাপাশি যে তিনজনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে তাদের নিয়ে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করেছে।

তিনি বলেন, মাত্র তিনজনকে আমন্ত্রণ জানানো হলো কেন? আওয়ামী লীগের উচিত ছিল তাদের সম্মেলনের আমন্ত্রণপত্র দলের (বিএনপির) কাছে পাঠানো। তারপর যদি দলের পক্ষ থেকে সম্মেলনে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয় তখন দল প্রতিনিধি মনোনীত করবে। কিন্তু এক্ষেত্রে যেভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, মনে হচ্ছে আওয়ামী লীগ-বিএনপির প্রতিনিধি ঠিক করে দিয়েছে।

এদিকে, সম্মেলনে আমন্ত্রণ পাওয়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন জানিয়েছেন, তিনি আওয়ামী লীগের সম্মেলনে যোগ দেবেন না।

খন্দকার মোশাররফ বলেন, আরও অনেক আগে থেকেই চট্টগ্রামে আমার কর্মসূচি নির্ধারণ করা রয়েছে। ফলে আওয়ামী লীগের সম্মেলনে আমার যাওয়ার সুযোগ নেই। তবে এ বিষয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত পরে জানানো হবে বলেও জানান তিনি।

আওয়ামী লীগের সম্মেলনে আমন্ত্রণ পাননি দাবি করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমি এখন কুমিল্লায় আছি। আগামীকাল আমাদের গণমিছিল। সেই কর্মসূচিতে আছি।

আওয়ামী লীগের সম্মেলনের দাওয়াত প্রক্রিয়া দলীয় নেতাকর্মীরা কীভাবে দেখছেন জানতে চাইলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খান বলেন, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, আব্দুল মঈন খান- তিনজনই বাংলাদেশের সিনিয়র সিটিজেন। তারা দলমত নির্বিশেষে অত্যন্ত সম্মানিত ব্যক্তি। তাদের যেভাবে একজন উপ-দপ্তর সম্পাদক দিয়ে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এটা আওয়ামী লীগের কোন ধরনের রাজনৈতিক সংস্কৃতি?

তিনি বলেন, যেখানে একটা ভিত্তিহীন মামলায় দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কারাবন্দি রাখা হয়েছে, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নির্বাসনে রাখা হয়েছে বিদেশে। ডেকে নিয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসহ ৪৭৩ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই বাস্তবতায় সেই দলের (আওয়ামী লীগের) কাউন্সিলে যাওয়ার পরিবেশ কতটুকু আছে সেটা আপনারা বিবেচনা করবেন।

আহমেদ আযম খান আরও বলেন, উদার গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের সঙ্গে রক্ষণশীল গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের বোঝাপড়া হতে পারে। কিন্তু উদার গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের সঙ্গে স্বৈরতন্ত্র-ফ্যাসিবাদীর সম্পর্ক হতে পারে না।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও সংবাদ
© All rights reserved © 2022
Customized By chattogramsangbad