
গত ৩০/০৮/২০২৬ ও ৩১/০৮/২০২৬ ইং তারিখে জাতীয় এবং স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রিন্ট ও অনলাইন ভার্সনে প্রকাশিত “চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভবন নির্মাণের কাজ পেতে জালিয়াতি, জি কে শামীমের বিচার শুরু“, “চবির ৭৫ কোটি টাকার ভবন নির্মাণ: জি কে শামীমের বিচার শুরুর আদেশ“, “চবিতে নির্মাণকাজ নিতে জালিয়াতি, বিচার শুরু জি কে শামীমের” এমন বিভিন্ন শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদ আমার মক্কেল গোলাম কিবরিয়া শামীমের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। সংবাদে কিছু তথ্যগত ভুল-ত্রুটি থাকায় এবং শুধুমাত্র রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর বক্তব্য নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন আমার মক্কেল। উক্ত সংবাদসমূহে উল্লেখ করা হয়েছে আমার মক্কেল যুবলীগের নেতা, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তিনি কখনো যুবলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন না। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নের সময় ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ২০০১-২০০৬ সালে বিএনপি সরকারের সময় ঢাকা মহানগর যুবদলের সহ-সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। এছাড়া সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে ২ মামলায় আমার মক্কেলের সাজা হয়েছে। কিন্তু যেই ২ মামলায় সাজার কথা বলা হয়েছে উক্ত মামলাগুলো থেকে তিনি মহামান্য হাইকোর্টে আপীল করে খালাস পেয়েছেন। হাইকোর্ট থেকে খালাসের পর সাজাপ্রাপ্ত উল্লেখ করার কোন সুযোগ নেই।
বিবাদীর আইনজীবীর মন্তব্য : প্রতিবেদনে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য নেওয়া সাংবাদিকতার নীতি ও আইনের একটি আবশ্যিক ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এক্ষেত্রে সেটা মানা হয়নি। যেহেতু আমি বাদী পক্ষের আইনজীবী, যদি সাংবাদিকরা আমার বক্তব্য গ্রহণ করতেন তাহলে ভুল-ভ্রান্তির কোন সুযোগ থাকতো না এবং আমার মক্কেলের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করায় আমাদের প্রতিক্রিয়া জনগণের নিকট পৌঁছানোর সুযোগ থাকতো। এই বিষয়ে আমার স্পষ্ট বক্তব্য হলো, আমার মক্কেল দেশের প্রথম শ্রেণির একজন ব্যবসায়ী। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলা ও মানববিদ্যা অনুষদ ভবন নির্মাণের (দ্বিতীয় পর্যায়) টেন্ডার ইস্যু করার সময় তিনি জালিয়াতি ও প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন মর্মে উল্লেখ করে চার্জশীট প্রদান করা হলেও সেটা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলায় তিনি কারাগারে থাকাবস্থায় তদন্ত কর্মকর্তা প্রভাবিত হয়ে চার্জশীট প্রদান করেন । চার্জশীটে উল্লেখ করা হয়েছে ৭৫ কোটি টাকার ওই প্রকল্পের কাজ নিতে জি কে শামীমের প্রতিষ্ঠান জি.কে.বি.এল এবং ফজলুল করিম চৌধুরীর দ্যা বিল্ডার্স ইঞ্জিনিয়ার্স এসোসিয়েটস লিঃ ‘প্রতারণা ও জালিয়াতির’ আশ্রয় নিয়েছেন। কাজ পেতে দরপত্রের সঙ্গে যেসব কাগজপত্র দেওয়া হয় সেগুলোতে জালিয়াতি করা হয়েছে। কিন্তু টেন্ডার প্রক্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক গঠিত উন্নয়ন ও ফাইন্যান্স কমিটির সুপারিশ , পরামর্শ দাতা প্রতিষ্ঠানের পরিকল্পনা ও সিন্ডিকেট সভায় অনুমোদনের পর ৭ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির সুপারিশে যথাযথ নিয়মে সম্পন্ন হয়। পরবর্তীতে দুদককে উপরের মহল থেকে প্রভাবিত করে মামলা দায়ের করানো হলে তদন্ত প্রতিবেদনে দ্যা বিল্ডার্স ইঞ্জিনিয়ার্স এসোসিয়েটস লিঃ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ২নং বিবাদী ফজলুল করিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি মর্মে তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। জয়েন্ট ভেঞ্চার বা যৌথ উদ্যোগে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও তদন্তে একজন অংশীদারের সম্পৃক্ততা পাওয়া এবং অন্য অংশীদারকে অব্যাহতি প্রদান সম্পূর্ণ বেআইনী। এছাড়া তদন্তকারী কর্মকর্তা আমার মক্কেলের বিরুদ্ধে জাল জালিয়াতির কোন প্রমাণ, নির্মাণ কাজে অযোগ্যতা, অপরাধ জনক বিশ্বাসভঙ্গ ও অবৈধভাবে লাভবান হওয়ার কোন অভিযোগ উল্লেখ করেননি। তাই এই চার্জশীট অনেকটা অসম্পূর্ণ ও ভিত্তিহীন।
এই ত্রুটিপূর্ণ অভিযোগপত্রের ভিত্তিতে আমার মক্কেলের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন না করার জন্য এবং দায় থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করে আইনগত দিক উল্লেখ পূর্বক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উপস্থাপন করা হয়। কিন্তু আদালত ইচ্ছাকৃতভাবে চার্জ গঠন করেছেন। আদালতের রায়ে আমার মক্কেল সংক্ষুব্ধ, রায়ের বিরুদ্ধে আমরা উচ্চ আদালতে যাবো।
আমার মক্কেল দেশের প্রথম শ্রেণির একজন ব্যবসায়ী ও সম্মানিত ব্যক্তি। সংবাদে কতিপয় ভুলভ্রান্তির কারণে এবং তার পক্ষের ও সঠিক বার্তা জনগণের নিকট না পৌঁছানোয় উনার ব্যাপক সম্মানহানি হয়েছে। তাই আগামীতে এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ প্রকাশে সাংবাদিকদের আরো সচেতন ও আন্তরিক হওয়ার বিনীত অনুরোধ রইল।
ধন্যবাদান্তে–
মোঃ রফিকুল হক
এডভোকেট
রুম নং: ৭২৯,
আইনজীবী শাপলা ভবন,
কোর্ট হিল, চট্টগ্রাম।