
নেপথ্যে বিসিডিএস চট্টগ্রামের নুরুল গণি ও শিবু প্রসাদ- জিম্মি হাজারী লেনের সাধারণ ব্যবসায়ীরা
ঢাকা-চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে ভেজাল, নকল ও নিম্নমানের জীবনরক্ষাকারী ওষুধ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করছে—এমন অভিযোগ বহু বছরের। ঢাকা ও চট্টগ্রামের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের হাত ধরে গত চার দশক ধরে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে মারাত্মক ভেজাল, নকল ও ‘দুই নম্বর’ জীবন রক্ষাকারী ওষুধ। ঢাকা কেরানীগঞ্জ ও মিটফোর্ড থেকে পুরো চট্টগ্রাম বিভাগ, চট্টগ্রাম হাজারী লেনসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিরাপদ চোরাকারবারি চ্যানেলের মাধ্যমে এই মরণঘাতী ওষুধের বাজারজাতকরণ চলছে। রাজনৈতিক খোলস পরিবর্তন করে বাংলাদেশ কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্ট সমিতি চট্টগ্রামের সাবেক সভাপতি নুরুল গণি ও তার সিন্ডিকেট এবং প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে নতুন বাংলাদেশের পটভূমিতেও এই চক্রটি নির্বিঘ্নে তাদের অবৈধ বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে, যা দেশের সামগ্রিক জনস্বাস্থ্যের জন্য এক মহামারী রূপ ধারণ করেছে|
মরণঘাতী সিন্ডিকেটের নেপথ্যে যারা
অনুসন্ধানে জানা যায়, এই শক্তিশালী সিন্ডিকেটের মূল হোতা হিসেবে কাজ করছেন বাংলাদেশ কেমিস্টস অ্যান্ড ড্রাগিস্টস সমিতি (বিসিডিএস) চট্টগ্রাম অঞ্চলের নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করছেন চট্টগ্রাম বিসিডিএস-এর সাবেক সভাপতি নুরুল গণি এবং বিসিডিএস সদস্য ও ছাত্র-জনতা হত্যার এজাহারভুক্ত পলাতক আসামি শিবু প্রসাদ এবং ওয়াসিম ও রাশেদসহ ১৫/২০ একটি শক্তিশালী অপরাধী সিন্ডিকেট।
হাজারী লেনে ২০/৩০ টি গোপন গোডাউন ও জিম্মি ব্যবসায়ীরা
চট্টগ্রামের ঔষধের প্রধান পাইকারি বাজার ‘হাজারী লেন’ এখন এই নুরুল গণি চক্রের মূল অভয়ারণ্য। জানা গেছে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও ওষুধ প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিতে হাজারী লেনের আনাচে-কানাচে এই সিন্ডিকেটের অর্ধশতাধিক গোপন গোডাউন ও ১৫/২০ টি ফার্মেসী রয়েছে। এর মধ্যে শুধু নুরুল গণি ও শিবু প্রসাদেরই রয়েছে প্রায় ২৫ টি গোপন গোডাউন, যেখানে অবৈধ, আমদানি নিষিদ্ধ ও নকল ওষুধ মজুত করা হয়|
এই সিন্ডিকেটের কাছে গত ৪০ বছর ধরে জিম্মি হয়ে আছেন হাজারী লেনের প্রায় হাজারখানেক বনেদী ও সাধারণ ওষুধ ব্যবসায়ী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সাধারণ ব্যবসায়ী জানান:
“এই চক্রটি এতটাই শক্তিশালী যে, তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস কারও নেই। অবৈধ টাকার জোরে তারা সবসময় ভাড়াটে সন্ত্রাসী ও কিলার বাহিনী পুষে থাকে। কোনো ব্যবসায়ী প্রতিবাদ করলেই তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়|”
প্রশাসনের নীরবতা ও হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ:
অভিযোগ রয়েছে, জনপ্রশাসন ও ওষুধ প্রশাসনের সঠিক তদারকি, দূরদর্শিতা এবং কার্যকর অনুসন্ধানী অভিযানের অভাবে এই গডফাদাররা যুগের পর যুগ ধরে ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে| প্রশাসনের একাংশের অনৈতিক যোগসাজশে এই চক্রটি রীতিমতো আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে যাচ্ছে| ভেজাল ওষুধের এই রমরমা কারবার করে মইনুল, গণি ও শিবু প্রসাদ তাদের পুরো সিন্ডিকেট আজ হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক বনে গেছেন|
বর্তমান প্রেক্ষাপট ও আশু করণীয়:
রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পরও এই সিন্ডিকেট ২০২৬ সালেও অত্যন্ত চতুরতার সাথে তাদের বলয় ধরে রেখেছে এবং জনস্বস্থ্যকে জিম্মি করে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে| বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনই যদি এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সমন্বিত ক্র্যাকডাউন চালানো না হয়, তবে নকল ওষুধের এই ভয়াবহতা চট্টগ্রামেরসহ দেশের চিকিৎসাব্যবস্থাকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেবে।